আইআইইউসি’র ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম

আধুনিক রাষ্ট্রকে বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হয় এ ছাড়া স্বপ্নের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

আধুনিক রাষ্ট্রকে বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হয়  এ ছাড়া স্বপ্নের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, আধুনিক রাষ্ট্রকে বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হয়। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ছাড়া স্বপ্নের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সংস্কৃতির অনেক উন্নতি হয়েছে. এ ক্ষেত্রে আমরা যতই এগিয়েছি ততই চাহিদা বেড়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরো সৃজনশীলতা দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে আমাদের দেশে একটি বিশাল শিক্ষা-পরিবার গড়ে উঠেছে, এখান থেকেই বিপ্লব সাধিত হবে, এই ক্ষেত্রকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৃজনশীলতায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।
গতকাল শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড পাবলিকেশন্স (সিআরপি)-এর সহযোগিতায় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের আয়োজনে দু’দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের দ্বিতীয় এবং আইআইইউসি’র দ্বাদশ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম এ অভিমত ব্যক্ত করেন। কুমিরায় আইআইইউসি’র নিজস্ব ক্যাম্পাসে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ইনোভেশন্স ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি-২০১৮’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী এই কনফারেন্সের উদ্বোধনী আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন আইআইইউসি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর কে. এম. গোলাম মহিউদ্দীন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কনফারেন্সের টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কমিটির চেয়ার প্রফেসর ড. এম কায়কোবাদ, আইআইইউসি’র বোর্ড অব ট্রাস্টীজের সদস্য প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ তাহের, আই ট্রিপল-ই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ার প্রফেসর ড. সেলিয়া শাহনাজ এবং আইআইইউসি’র ট্রেজারার প্রফেসর ড. আবদুল হামিদ চৌধুরী। স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন কনফারেন্স আয়োজন কমিটির কনভেনার এবং আইআইইউসি’র বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. দেলাওয়ার হোসেন ও কমিটির সদস্য সচিব তানভীর আহসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন ইন্টারনেটের যুগে বাস করছি, কৃত্রিম জ্ঞান, কৃত্রিম মেধা সব জায়গায় অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। আমাদেরকে আগামীর উন্নত ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার জন্য বিজ্ঞানের নতুন সৃষ্টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সবুজের সৌন্দর্যে সজ্জিত আইআইইউসি’র শিাল ক্যাম্পাস দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পন্ডিতদের এই সমাবেশ এবং মেধা ও অভিজ্ঞতার বিনিময় তরুণ শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি জগতের অনাবি®কৃত দিগন্তকে উন্মোচন করার সুযোগ করে দেবে। তিনি এই কনফারেন্সের আয়োজক আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।
অতিথির বক্তব্যে কনফারেন্সের টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কমিটির চেয়ার, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম কায়কোবাদ বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর মাধ্যমেই বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ একমাত্র কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা যেতে পারে। তিনি বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ থেকে অনেক মেধাবী গবেষক যোগদান করে এই কনফারেন্সকে সমৃদ্ধ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি’র বোর্ড অব ট্রাস্টীজের সদস্য প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ তাহের বলেন, নৈতিকতা ছাড়া বিজ্ঞান অন্ধ, আমাদের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব। একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য নৈতিকতা ও বিজ্ঞান সমন্বিতভাবে কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।

অতিথির বক্তব্যে আই ট্রিপল-ই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ার প্রফেসর ড. সেলিয়া শাহনাজ বলেন, আই ট্রিপল-ই’র বাংলাদেশ সেকশন এই কনফারেন্সের টেকনিক্যাল কো-স্পন্সর হতে পেরে আনন্দিত। তিনি বলেন, আই ট্রিপল-ই মানবকল্যানের লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সৃজনশীলতার অগ্রগতিসাধনে নিবেদিত।

সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর কে. এম. গোলাম মহিউদ্দীন বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুরুত্বের নিরীখে এর ডাইমেনশনগুলোর উপর বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি প্রাগ্রসর প্রযুক্তিময় বিশ্বে সৃজনশীলতাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞানের প্রয়োজন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আবিষ্কার এবং সমাজের মধ্যে সম্পর্কটা জটিল। বিশেষ করে বাংলাদেশে এসবের নতুন জ্ঞান সমাজের সমস্যা সমাধান করতে পারেনা। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি যাদের প্রয়োজন সেই মানুষের কাছে পৌছায় না। এই কনফারেন্স বিশ্বের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পন্ডিতদের সম্মিলনের এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সর্বক্ষেত্রের নতুন ধারণা, সাম্প্রতিক ফলাফল এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা সম্পর্কে মতবিনিময়ের দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে। আইআইইউসি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর কে. এম. গোলাম মহিউদ্দীন বলেন, সভ্যতার অগ্রগতির জন্য প্রযক্তির আবিষ্কার অনিবার্য। যে কোন ভাল কিছুর বিপরীত ফল অছে। যেমন, শিল্পায়নের ফলে পরিবেশ বিপর্যয় মানবসম্প্রদায়ের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে পানি ও বায়ূদূষণ। এসবের বাস্তব সমাধানকল্পে এই বিষয়গুলোর উপর আরো বেশি গুরুত্বারোপ করার জন্য তিনি গবেষকদের পতি আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তাই পরবর্তী প্রজন্মের গন্তব্যকে উপেক্ষা করতে আমাদের এতটা স্বার্থপর হওয়া উচিত নয়। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বিশ্ব নিশ্চিত করা উচিত।

উল্লেখ্য এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের টেশনিক্যাল কো-স্পন্সর হলো আই ট্রিপল-ই’র বাংলাদেশ সেকশন। এই কনফারেন্সে দেশের প্রায় সবক’টি সরকারী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, নেপাল, পাকিস্থান, তুরস্ক ও বিভিন্ন দেশসহ ১৫ টি দেশের প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষক-প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করবেন। কনফারেন্সে প্রাপ্ত ৩৫১ টা প্রবন্ধের মধ্যে ১০৪ টা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে। কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আইআইইউসি’র প্রফেসর এমিরিটাস ও সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আজহারুল ইসলাম, মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারার রেক্টর প্রফেসর দাতো ড. আবু বকর আবুদুল মজীদ, ন্যাশনাল এনার্জি ইউনিভার্সিটির প্রফেসর নওশাদ আমিন, ভারতের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যবরেটরির প্রফেসর ভেদ রাম সিং, কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দেবতোষ গুহ, কানপুরের আইআইটি’র প্রফেসর ফাল্গুনী গুপ্ত, থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিিিটউট অব টেকনোলজির (এআইটি) প্রফেসর ভীরেকর্ণ অংসাকুল, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ণ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এটসুশি ইনো, জাপানের ইউনিভার্সিটি অব হাইয়োগোর প্রফেসর ড. শোজি কাবাশি, ওসাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোঃ আতিকুর রহমান আহাদ। আজ দ্বিতীয় দিনেও প্রবন্ধ উপস্থাপন, আলোচনা ও সমাপনী অনুষ্ঠান রয়েছে।

Recent News